realme C17 : অদ্ভুত কম্বিনেশন? – ফুল ওভারভিউ

 

গতকাল রিলিজ হয়ে গেলো realme C17, আর এর মাধ্যমে প্রথম কোন স্মার্টফোনের গ্লোবাল রিলিজ হলো বাংলাদেশে। তাই দেশের স্মার্টফোন জগতে এখন আলোচনার শীর্ষে এই ডিভাইসটি, তবে সাথে যোগ হয়েছে সমালোচনাও। বিশেষ করে চিপসেটে ডাউনগ্রেড করাটা পছন্দ হয়নি অনেকেরই।

প্রতিটি ব্র্যান্ডের থেকে এক্সপেক্টেশনের কিছুটা পার্থক্য থাকে, রিয়েলমির কাছে যেরকম এক্সপেক্টেশন থাকে, এই ফোনটি ঠিক সেকরম নয়। সত্যি বলতে আমার মনে হয়েছে এটা এটা Oppo বা vivo ব্র্যান্ডিংয়ের সাথে বেশি মানানসই, আর আসলেই এটা Oppo A53 এর প্রায় অনুরূপ, Vivo Y20-ও বেশ কাছাকাছি। রিউমার শোনা যাচ্ছে একই চিপসেটের সাথে  বাজারে আসতে পারে OnePlus Clover-ও। মানে হচ্ছে BBK Electronics তাদের ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এখন বলতে গেলে কোন তফাৎ-ই রাখছে না।

Realme C17

তাছাড়া C সিরিজটিও বেশ কনফিউজিং। C1, C2, C3, C11, C12, C15, C17 নামগুলোর মধ্যে যেমন ধারাবাহিকতার চিহ্ন নেই, তেমনি কনফিগারেশন বা দামের মাঝেও ছন্দ নেই। ৯০০০ থেকে ১৬০০০ টাকা, ২ জিবি থেকে ৬ জিবি র‍্যাম, Helio G35 থেকে Helio G70 বা Snapdragon 460 চিপসেটের ফোন, ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজও বিভিন্নরকম এরকম সব ডিভাইস একই সিরিজে কেন তা একদমই বোধগম্য হয়নি।

realme C17 – ওভারভিউ

১৫৯৯০ টাকায় লঞ্চ হওয়া realme C17 এর মূল আকর্ষণ হলো ডিজাইন, হায়ার রিফ্রেশ রেট ডিসপ্লে ও র‍্যাম-রম। 90Hz রিফ্রেশ রেট এই ফোনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি। আর 6/128 ভ্যারিয়েন্টের ডিভাইস এই দামের মধ্যে পাওয়া অনেকের জন্যই ফোনটি কেনার কারণ হতে পারে। তবে এবার আর চিপসেটে প্রায়োরিটি দেয়নি রিয়েলমি, দেওয়া হয়েছে Qualcomm Snapdragon 460, যেটি এই ফোন নিয়ে সমালোচনার বড় কারণ।

 

ডিজাইন

ফোনটির ডিজাইন প্রায় সবারই পছন্দ হওয়ার মত। এর ডিজাইন অনেকটা কিছুদিন আগে রিলিজ হওয়া vivo Y20 এর মত। Navy Blue ও Lake Green কালারে ডিভাইসটি এসেছে। আয়তাকার ক্যামেরা বাম্পে থাকছে ৪টি ক্যামেরা লেন্স ও ফ্ল্যাশ। ডিজাইন এই ফোনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি। তবে এখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি রেয়ার মাউন্টেড না হয়ে সাইড মাউন্টেড হলে সম্ভবত আরেকটু সুন্দর দেখাতো।

Realme C17

ডিসপ্লে

সবচেয়ে অল্প দামের মধ্যে 90Hz রিফ্রেশ রেট অফার করছে realme C17। তবে এর ডিসপ্লেটির বড় ডাউনসাইড হলো এটি HD+ (1600*720) রেজ্যুলেশনের একটি IPS প্যানেল। 90Hz যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, তা দিয়ে রেজ্যুলেশনের ঘাটতি কিন্তু পূরণ হবে না। FHD+ ডিসপ্লে এই দামে অবশ্যই আশা থাকে।

এটি একটি পাঞ্চহোল ডিসপ্লে, যা অনেকেই নচ থেকে বেশি পছন্দ করে থাকেন। রিয়েলমি বলছে স্ক্রিন টু বডি রেশিও 90%। আরেকটি ভালো দিক হলো এখানে গরিলা গ্লাসের প্রটেকশন থাকছে। তবে ভার্সন উল্লেখ নেই, যা Gorilla Glass 3 নির্দেশ করে।

ক্যামেরা

ক্যামেরা সেকশন নিয়ে আমি বেশ হতাশ। এখানে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ থাকলেও প্রাইমারী ক্যামেরাটি 13MP f/2.2। এই ক্যামেরা থেকে এক্সপেক্টেশন সীমিত রাখাই ভালো। অ্যাপের্চার f/2.2 হওয়ায় ভালো আলো ছাড়া ভালো ছবি পাওয়া কঠিন। স্লো-মোশন রেকর্ডিং সুবিধা সম্ভবত থাকছে না।

অন্য ক্যামেরা তিনটির মধ্যে একটি আল্ট্রাওয়াইড লেন্স আছে, 8MP f/2.2, যেটা ভালো ব্যাপার। তবে বাকি দুটো ক্যামেরা 2MP f/2.4 এর ম্যাক্রো লেন্স ও B&W লেন্স। অনেকে এই ক্যামেরাগুলোকে ইউজলেস বলে থাকেন, তবে আসলে না, ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। অন্যদিকে সেলফি ক্যামেরাটি 8MP f/2.0।

Realme C17

চিপসেট

এবার চলে আসলাম এই ফোনের সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত অংশ এর চিপসেট নিয়ে। এখানে থাকছে Qualcomm Snapdragon 460। 400 সিরিজ মূলত স্ন্যাপড্রাগনের এন্ট্রি লেভেলের চিপসেট সিরিজ, আর একারণে চিপসেটটি নিয়ে সমালোচনা আরো বেশি হচ্ছে। তবে এটি কিন্তু 400 সিরিজ অনুযায়ী বেশ উন্নত।

এখানে চারটি হাই-পারফর্মেন্স Cortex-A73@1.8GHz (Kryo 240 Gold) কোর থাকছে, A70 সিরিজের কোন সম্ভবত 400 সিরিজে এটাই প্রথমবার। ফলে গীকবেঞ্চে সিঙ্গেল কোরে SD450 থেকে এটা প্রায় 70% বেটার পারফর্মার। অন্য চারটি কোর হলো Cortex-A53@1.6GHz (Kyro 240 Silver)। এখানে GPU থাকছে Adreno 610, যেটা SD665-এও ব্যবহৃত হয়েছে। এর ট্রানজিস্টর সাইজ 11nm।

SD460-কে SD636 ও SD665 এর মাঝামাঝি রাখা যেতে পারে। রিয়েলমি একটি পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক ফোন নির্মাতা ব্র্যান্ড। তারা realme 5i যেখানে SD665 দিয়েছে ১৩০০০ টাকায়, ১১০০০ টাকায় C3 দিয়েছে G70, তখন ১৬০০০ টাকায় SD460 মানায় না। একারণে এটা নিয়ে সমালোচনা অবশ্যই যৌক্তিক।

Qualcomm Snapdragon 460 যে একদমই খারাপ তা নয়, তবে রিয়েলমিকে এর আগে যেরকম অল্প বাজেটে খুব ভালো চিপসেট দিতে আমরা দেখেছি, এবার তা হচ্ছে না। যদি আমরা ভুলে যাই এটি একটি রিয়েলমি ডিভাইস, তাহলে এই চিপসেটটি আমি বলব এই দামে ঠিক আছে।

স্টোরেজ ও মেমোরি

মেমোরি আর স্টোরেজের বেলায় কিন্তু কোন কার্পন্য করেনি রিয়েলমি। 6GB LPDDR4X সিরিজের র‍্যাম মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য এটি ভালো চয়েস হতে পারে। সাথে 128GB UFS 2.1 ইনবিল্ট স্টোরেজ আছে, যা প্রায় সবার জন্যই পর্যাপ্ত হবে আশা করা যায়। এরপরও না চললে ডেডিকেটেড এসডি কার্ড স্লটও থাকছে।

এখানে অনেকের মতে SD460 এর সাথে 6GB দিয়ে লাভ নেই। হ্যাঁ, আমিও মানছি 6GB র‍্যামের ডিভাইসে আরো ভালো চিপসেট থাকা উচিৎ। তবে কয়েকটি অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু রাখাসহ মাল্টিটাস্কিং করার ক্ষেত্রে বাড়তি র‍্যাম অবশ্যই এডভান্টেজ দিতে পারে। আর 128GB স্টোরেজ থাকায় এসডি কার্ড কেনার খরচটা হয়ত বেঁচে যাবে।

 

ব্যাটারী ও চার্জিং

5000mAh এর ব্যাটারী থাকছে এখানে, রিয়েলমি যেটাকে বলছে Massive। তবে আসলে এখন 5000mAh মোটেও ম্যাসিভ কিছু নয়, একদমই সাধারণ ব্যাপার। সাথে 18W ফাস্ট চার্জিং সমর্থনও আছে। চার্জিংয়ের জন্য থাকছে Type C পোর্ট, এছাড়াও আছে 3.5mm ইয়ারফোন জ্যাক।

সেন্সর ও অন্যান্য

সেন্সর সেকশনে এসে আমি কঠিনভাবে হতাশ, কেননা এটা ১৬০০০ টাকার একটা ডিভাইস আর এখানে জাইরোস্কোপ সেন্সর নেই। জাইরোস্কোপ সেন্সর কাজে লাগে ফোনের ঘূর্ণন পরিমাপের জন্য। 360 ডিগ্রি ছবি (যেমন গুগল ম্যাপ স্ট্রিট ভিউ) বা ভিডিও দেখার সময় এটা বিশেষভাবে কাজে দেয়। realme C17-এ লাইট, প্রক্সিমিটি, একসেলারেশন সেন্সর থাকছে, আর থাকছে ম্যাগনেটিক ইনডাকশন সেন্সর।

Realme C17

অভিমত

90Hz রিফ্রেশ রেটের সাথে HD+ রেজ্যুলেশন, 6GB র‍্যামের সাথে Snapdragon 460 কম্বিনেশন ঠিক যেন মানানসই নয়, কিছুটা কনফিউজিং-ও বলা যায়। যাই হোক, অন্য কোন ব্র্যান্ডের ডিভাইস হলে বলতাম ফোনটা বেশ সুন্দর, 90Hz রিফ্রেশ রেট, পাঞ্চহোল, 6/128 সব মিলিয়ে আকর্ষণীয়। তবে রেজ্যুলেশন FHD+ আর ক্যামেরা সেটআপ আরেকটু উন্নত হলে খুব ভালো একটা ডিল হতে পারতো।

তবে যেহেতু এটা একটা রিয়েলমি ডিভাইস, তাই আরেকটু অন্যভাবে বলতে হচ্ছে। SD460 দিয়ে ক্যামেরার সংখ্যা, রিফ্রেশ রেট, ডিজাইন, র‍্যাম-রম দিয়ে গ্রাহকদের আকর্ষণ করা একদমই রিয়েলমির সাথে যায় না। সেই সাথে 6i এর মত আবার HD+ ডিসপ্লে ধরিয়ে দিয়েছে, ক্যামেরার অবস্থা আরো শোচনীয়।

স্কোর

কোন ডিভাইস কতটা ভ্যালু ফর মানি, তা মূল্যায়নের জন্য আমাদের বিশেষ এই স্কেলে ৫০% পাওয়ার অর্থ হলো এভারেজ। যদি কোন ডিভাইস মোট ১০০ এর মধ্যে ৬০ অর্জন করতে পারে, তাহলে এটি এই স্কেলে ভালো একটি ডিভাইস, ৭০ হলে গ্রেট ভ্যালু ফর মানি। অন্যদিকে ৫০ এর কম হলে নট আপ টু মার্ক বা ওভারপ্রাইসড।

  • ডিজাইন: ৬/১০
  • বিল্ড: ৪/১০
  • ডিসপ্লে: ৬/১০
  • ক্যামেরা: ৬/১৫
  • ব্যাটারী ও চার্জিং: ৬/১০
  • চিপসেট: ১০/২০
  • মেমোরি-স্টোরেজ: ১২/১৫
  • সেন্সর ও অন্যান্য: ৪/১০

মোট স্কোর: ৫৪/১০০

অর্থাৎ, আমাদের স্কেল অনুযায়ী এটি এভারেজ একটি ডিভাইস। ঠিক আছে, তবে খুব ভালো কিংবা গ্রেট ভ্যালু ফর মানি এরকম নয়।

তথ্যসূত্র: অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

— একটি নিয়নবাতি পরিবেশনা —

বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমরা অনুপ্রাণিত হব 🙂




যেকোনো সমস্যা হলে গ্ৰুপে পোস্ট করলে অথবা পেজে মেসেজ দিলে সমাধান পেয়ে যাবেন 🔥🌺♥️🍀🌷
আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য,

Comment

Previous Post Next Post